দিনলিপি

২০-৭-২০২১, মঙ্গলবার

২০-৭-২০২১, মঙ্গলবার

 

এক.

বাবার মুখে শুনেছি, বড়সড় একটা গরুর দাম ছিলো ৬০ টাকা। জি, মাত্র ৬০ টাকায় অতিকায় একটা গরু। খুব বেশি দিন আগের কথা না। ৬০ বছর আগের বাজার। আব্বুরা তখন ছোট, দাদুরা মানে আব্বুর বাবা-চাচারা গরুর চারপাশে দাঁড়িয়ে বলাবলি করতেন, গরুর দাম এত বেড়ে গেছে? কী আশ্চর্য, আমরা ছোট থাকতে দেখতাম আব্বা-চাচা গরু কিনতেন ১০ টাকায় ১২ টাকায়! দিনদুনিয়া বেতাল হয়ে যাচ্ছে।

 

দুই.

গরুর দাম শুনলেই আমার মতো গরিবের জন্য আকাশকুসুম ব্যাপারস্যাপার। গতকাল রাতে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে বাসার কাছাকাছি কয়েকটা গরুর দাম জিজ্ঞাস করতে করতে আসলাম। একটা আড়াই লাখ, আরেকটা দেড় লাখ, আরেকটা তিন লাখ। মানে এখন লাখের নিচে গরু নেই। বাসায় ফিরেই শুনি বাবা গরুর হাটে, কচুক্ষেত বাজার থেকে কিনে ফেলেছেন মাশাল্লাহ, এবং যথারীতি লাখের নিচে না! আগে তো বাবার সঙ্গে শেয়ার করেছি, কিন্তু এবার আমার পকেট সত্যিই গড়ের মাঠ। নিতান্তই ছোটখাট ছাগল নিতে পারি কি না, হাত চুলকানো অবস্থা। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। গুনাহের কারণে বেশ কিছু কঠিন ইমতেহান গিয়েছে, আল্লাহর কাছে তো সবই সহজ!

 

তিন.

দুপুরের আগে বাসায় কাজের আপা এলেন। আমি আমার রুমে একটা বই পড়ছিলাম। খেয়াল করলাম রান্নাঘরের দিক থেকে হাউমাউ করে কান্নার আওয়াজ আসছে। কী ব্যাপার? আম্মার মুখে শুনলাম রোড এক্সিডেন্টে তার বোন মৃত্যুপথযাত্রী। মাথা-মগজ থেতলে গেছে। কিশোরগঞ্জে বাড়ি, গতকাল রাতে রওনা হয়েছিলেন। সঙ্গে তার ছোট ছেলে-মেয়েকেও পাঠিয়েছিলেন। এই তো গতকাল রাতের ঘটনা। খুব খারাপ লাগলো। আম্মু এবং আমিও চুক্তির স্বাভাবিক উজরতের বাইরেও আখেরাতের একাউন্ট ডিপোজিট হিসেবে কিছু দেই। এখন মনে হচ্ছে কোরবানির নামে ত্রাহি ত্রাহি করে জমানোটুকু কমে গেলে কি কোরবানি থেকে মাফ পাবো? নাহ, সেটাও তো আল্লাহর জন্যই এবং ভোগও তো অন্যদেরই!

 

চার.

রুমে ফিরে এসে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি পরপর আরো কয়েকটা মৃত্যুসংবাদ। কলরবের একজন শিল্পী ইন্তেকাল করেছেন। মাহফুজ আলম ভাই। দুঃখজনক শিল্পীকে আগে সেভাবে শোনা হয়নি। শুনেছি মায়ের কোলে কালমা পড়ে ইন্তেকাল করেছেন। কী সুন্দর এবং সৌভাগ্যের ইন্তেকাল! চারিদিকে এত এত সুংবাদ-দুঃসংবাদ, সতর্ক হচ্ছি কি? পাপ ছাড়তে পারছি তো? আল্লাহ ক্ষমা করুন।

 

পাঁচ.

একটা পঁচা কথা বলি। আজ রোজা রাখতে পারিনি। ওজর ছিলো। কিন্তু সেটা এড়ানোও যেতো। যাইহোক, দুপুরের খাবারের পর দেখি আম্মু দুধ জ্বাল দিচ্ছেন, ঈদের পায়েশের জন্য। পাশে গুড়ের স্তূপ। মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো। কাপ এনে গুড়ের সঙ্গে দুধ জ্বাল দিয়ে সদ্য কেনা স্পেশাল মাসালা টি বক্স থেকে একটা ব্যাগ চুবিয়ে নিলাম। চা-খোরদের জন্য লোভাতুর একটা সংবাদ। সত্যি অসাধারণ এবং নতুন একটা আইটেম ছিলো। স্বাদে-ঘ্রাণে-বর্ণে এক কথায় অপার্থিব! মাত্র শেষ চুমুক দিয়েই এটা লিখলাম। এখনো দুধ-মশলা-গুড়-চায়ের স্বাদ মুখে ভরে আছে। আগামীকাল ঈদের দাওয়াত থাকলো সবাইকে। আসলে কোরবানির মাংসের সঙ্গে নিজ হাতে বানানো স্পেশাল সুস্বাদু চা খেয়ে যাবেন।